শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন মেদিনীপুর শহরের করোনা আক্রান্ত প্রৌঢ়া

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৬ জুলাই : গতকাল (শনিবার) রাতে করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসা, মেদিনীপুর শহরের কামারআড়া পিরবাগানের (পিরপুকুর) ৬২ বছর বয়সী প্রৌঢ়ার মৃত্যু হল আজ (রবিবার) দুপুরে। মেদিনীপুর শহরের ওই প্রৌঢ়া দিনকয়েক আগে শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। ২৪ জুলাই (শুক্রবার) তাঁর লালারসের নমুনাও সংগৃহীত হয়, কিন্তু রিপোর্ট আসার আগেই তাঁর পরিবার-পরিজনেরা তাঁকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ’তে ভর্তি করেন শনিবার। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যাতেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে! জেলা স্বাস্থ্য ভবন ও প্রশাসনের উদ্যোগে, ওই প্রৌঢ়াকে লেভেল ফোর করোনা হাসপাতাল শালবনীতে নিয়ে যাওয়া হয়, স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, রাত্রি সাড়ে দশটা নাগাদ তাকে তাঁকে যখন নিয়ে যাওয়া হয়, তাঁর প্রবল শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। স্বাস্থ্য আধিকারিক রাও একই কথা জানিয়েছেন। জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (১) ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী আজ সকালেই জানিয়েছিলেন, “ওই প্রৌঢ়াকে শালবনীতে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। ওনার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ছিল।”

আরও পড়ুন -   ট্রায়াল শেষ, নিজের বাড়িতে ফিরে এলেন বাংলার "করোনা যোদ্ধা"
thebengalpost.in
রাত ১০ টা – ১০.৩০ টা নাগাদ বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ওই করোনা আক্রান্ত মহিলাকে নিয়ে যাওয়া হয় করোনা হাসপাতালে :

শেষ পর্যন্ত আজ (রবিবার) দুপুর নাগাদ ওই প্রৌঢ়া(৬২)’র মৃত্যু হয় ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থাতেই। শালবনী’র ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অভিষেক মিদ্যা জানিয়েছেন, “ওই বৃদ্ধাকে গতকাল রাতে যখন নিয়ে আসা হয়, তখন থেকেই ওনার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল!” ঘটনার পর, ওই বৃদ্ধা’র ছোটো জামাইয়ের এর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল, তিনি বললেন, “ওনার জ্বর হয়েছিল, তাই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই একটু শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল, কিন্তু সেরকম কিছু চিকিৎসা হচ্ছিলনা! তাই, আমরা বাড়ি নিয়ে চলে এসেছিলাম শুক্রবার রাতে। শনিবার সকালে ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। ওখানে আইসিইউ’তে চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। শনিবার অনেক রাতে আমাদের ফোন করে জানানো হয় রিপোর্ট পজিটিভ!”
এদিকে, মেদিনীপুর শহরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে ওই বৃদ্ধার সংস্পর্শে থাকা স্বাস্থ্য কর্মীদের এবং মৃতা’র পরিবার-পরিজন’ দের কোয়ারেন্টিন করা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য ভবন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা যায়। ইতিমধ্যে, ওই কামারআড়া এলাকার পিরবাগানে পুলিশ কনটেইনমেন্ট জোন করেছে।